সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন ছিল কিন্তু হলেন অভিনেত্রী, শেষ সময়ে ভিক্ষা নয় কাজ চেয়েছিলেন সুরেখা

২০২০ এমনই একটা বছর ছিল যেই বছরে বহু শিল্পী প্রয়াত হন। এই বছরও থেমে নেই। সাধারণ থেকে শিল্পী, তারকা বহু প্রাণ খসে পড়েছে। তেমনই শুক্রবার নক্ষত্র পতন হয় যশস্বী শিল্পী সুরেখা সিক্রির।

১৬ ই জুলাই সকাল বেলা হৃদ রোগে আ'ক্রা'ন্ত হয়ে প্রয়াত হন সুরেখা সিক্রি। ২০২১ প্রয়াত হলেও ২০২০ থেকেই অসুস্থ ছিলেন কিংবদন্তি অ'ভিনেত্রী। গত বছর ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার পরেও থেমে থাকেননি তিনি। তখনও কাজ করার জন্য মনের জোড় রেখেছিলেন তিনি।

একবার এক সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছিলেন, “I don’t want any wrong impression to be created among people that I am going around begging people for money. I don’t want charity. Yes many have reached out to me, which is very kind of them. I really feel grateful. But I’ve not taken anything from anyone. Give me work and I want to earn respectfully.” অর্থাৎ, আমি কোনো দুর্বল ভাবমূর্তি তৈরি করতে চাই না।

আমি কারোর থেকে অর্থ সাহায্য চাই না। যারা আমার কাছে এসেছেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ, কিন্তু আমি কাজ করতে চাই। কাজ করে সন্মানের সঙ্গে অর্থ উপার্জন করতে চাই।

ইচ্ছে ছিল সাংবাদিক হওয়ার, হয়ে গেলেন অ'ভিনেত্রী। ১৯৬৮ সালে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে নাট্যতত্ত্বে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর নাটক, থিয়েটারের মঞ্চে নাম পরিচিতি toiri korte লাগলেন তিনি।১৯৮৯ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার অর্জন করেন।

এর মধ্যেই ১৯৭৮ সালে ‘কিসসা কুর্সি কা’ দিয়ে ডেবিউ করেছিলেন বলিউডে। এরপর বহু হিন্দি সিনেমা ও সিরিয়ালে তাকে দেখা গিয়েছে। ‘তামাস’, ‘মাম্মো’, ‘বাঁধাই হো’ এর জন্য তিনি তিনবার জাতীয় পুরস্কার পান। তার শেষ ছবি ছিল জোয়া আখতারের ‘Ghost Stories’।

২০১৮ তেও মুক্তি পায় বাধাই হো, এই ছবির জন্যেও তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অ'ভিনেত্রী বিভাগে তার তৃতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। সেই সময়কার অ'ভিনেত্রী নাটক থিয়েটার সিনেমা যেমন জোরকদমে করেছিলেন, পড়াশুনো দুর্দান্ত ভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

এখন কালার্স টিভিতে বালিকা বধূ দ্বিতীয় পর্যায়ে নতুন করে শুরু হচ্ছে। কিন্তু, প্রথম বালিকা বধুতে এই কিংবদন্তি অ'ভিনেত্রী ছিলেন লিড রোলে। সকলের প্রিয় দাদিসা ছিলেন তিনি। আজ অনেকের মন খারাপ। সকলকে বিদায় জানিয়ে সকাল সকাল পরলোক চলে গেলেন অন্যতম সুশ্রী দক্ষ অ'ভিনেত্রী সুরেখা সিক্রি। বালিকা বধূ আবার হবে কিন্তু আনন্দীর দাদিসা আর থাকছে না।